ভিটামিন ই ক্যাপসুল খেলে কি হয় বা ভিটামিন ই বেশি খেলে কি হয়

ভিটামিন ই ক্যাপসুল খেলে কি হয় vitamin e capsule khele ki hoy

ভিটামিন ই ক্যাপসুল খেলে কি হয় এটা অনেকেরই জানা নাই। ভিটামিন ই ক্যাপসুলের অনেক উপকারিতা রয়েছে। অন্যান্য ভিটামিনের মত ভিটামিন ই এর অনেক উপকারিতা রয়েছে। ভিটামিন ই  মানব দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। বর্তমান সময়ে ভিটামিন ই  রূপচর্চায় ব্যবহার হয়।

ভিটামিন ই ক্যাপসুল বর্তমান সময়ে কসমেটিক্স হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। ভিটামিন ই ক্যাপসুল মেয়েরা বেশি ব্যবহার করে থাকে। ভিটামিন ই ক্যাপসুলের উপকারিতা  এবং  এর ব্যবহার সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

    ভিটামিন ই এর ব্যবহার:

    মানবদেহের  ভিটামিন ই এর অনেক ব্যবহার রয়েছে। ভিটামিন ই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ভিটামিন ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে। ভিটামিন ই এর ব্যবহার নিম্নে আলোচনা করা হল:

    1. বয়সের ছাপ দূর করে।
    2. অকালে চুল পড়া বন্ধ করে।
    3. চুলের যত্নে ব্যবহার হয়।
    4. রোদপোড়া ঠেকাতে।
    5. ত্বকের যত্নে।
    6. নাইট ক্রিম হিসেবে ব্যবহার।
    7. বিভিন্ন ধরনের দাগ দূর করে।
    8. চোখের নিচের কালো দাগ।
    9. নখের যত্নে ভিটামিন ই।

    ১. বয়সের ছাপ দূর করে

     বর্তমান সময়ে কম বয়সেই অনেক বৃত্তের মত মনে হয়। এই সমস্যাটি হয়ে থাকে আমাদের দেহে ভিটামিন ই এর অভাবে। ভিটামিন ই ক্যাপসুল খাওয়ার ফলে বাধ্যক্য দূর হয়। ভিটামিন ই খেলে বয়স হলো মানুষের হাত পায়ের চামড়ায় ঢিল হয়না। হাত-পা মুখের উজ্জলতা বৃদ্ধি পায়। যার ফলে মানুষকে দেখে তার বয়স নির্ণয় করা যায় না। ভিটামিন ই ক্যাপসুল নিয়মিত সেবন করলে বার্ধক্যজনিত সকল সমস্যার দূর হয়। বয়স বেশি হলেও বোঝা যায় না। বয়সের ছাপ দূর করতে সবচেয়ে কার্যকরী ভিটামিন হল ভিটামিন ই।

    ২. অকালে চুল পড়া বন্ধ করে:

    বর্তমান সময়ে অকালে চুল পড়ে যাচ্ছে। সমস্যাটি দিন দিন বেড়েই চলেছে। কি কারনে এই সমস্যাটা হয় সেটা আমরা অনেকেই জানিনা।  অকালে চুল পরে সাধারণত  ভিটামিন ই এর অভাবে। অনেক ভিটামিন এ এর উৎস খুঁজে পায়না। এই কারণে অকালে চুল হারাতে হয়। অকালে চুল পড়া বন্ধ করতে হলে অবশ্যই ভিটামিন ই খেতে হবে।

    ৩. চুলের যত্নে ব্যবহার হয়:

    চুলের যত্নে ভিটামিন ই ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ভিটামিন ই ক্যাপসুল অনেকে চুলে ব্যবহার করে থাকে। ভিটামিন ই চুলের গোড়া মজবুত করে এবং  গুণগত মান ঠিক রাখে। বর্তমান সময়ে সকল কসমেটিক দোকানে ভিটামিন ই ক্যাপসুল পাওয়া যায়। এর ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলেছে। চুল লম্বা ও সুন্দর করতে ভিটামিন ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    ৪.রোদপোড়া  ঠেকাতে:

    রোদের মধ্যে চলাফেরা করলে রোদের তাপে চোখ মুখ পুড়ে যায়। যার ফলে ত্বকের উজ্জ্বলতা নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু ভিটামিন ই ক্যাপসুল যদি ব্যবহার করে রোদে যাওয়া হয় তাহলে  রোদে পোড়া সম্ভাবনা কম থাকে। যার ফলে ত্বকের উজ্জ্বলতা ঠিকঠাক। রোদের হাত থেকে বাঁচাতে ভিটামিন ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    ৫.ত্বকের যত্নে:

    বর্তমান সময়ে মানুষ ত্বকের যত্নে অনেক গুরুত্ব দিচ্ছে। ত্বকে বিভিন্ন ধরনের ব্যবহার করছে। বর্তমান সময়ে ভিটামিন ই ক্যাপসুল অনেকের মুখে ব্যবহার করছে এবং তার সাথে সেবন করছে।

     ভিটামিন ই ক্যাপসুল ত্বকের যত্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কারণ ভিটামিন ই ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। ত্বক সুন্দর ও উজ্জলতা বৃদ্ধি করে। বিভিন্ন ধরনের কালো দাগ দূর করে। ভিটামিন ই এর অনেক ধরনের উপকারিতা রয়েছে।

    ৬. নাইট ক্রিম হিসেবে ব্যবহার:

    আমরা অনেকেই ঘুমানোর সময় বিভিন্ন ধরনের ক্রিম ব্যবহার করে থাকি। এসব ক্রিম ব্যবহার করা হয় রাত জাগার ফলে যেন কোন কিছু যেন বের না হয়। বাজারে অনেক ধরনের নাইট ক্রিম পাওয়া যায়।

    কিন্তু সবচেয়ে কার্যকরী এবং ভরসাযোগ্য সমাধান হচ্ছে ভিটামিন ই ব্যবহার করা। ভিটামিন-ই ঘুমানোর আগে ব্যবহার করলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। ভিটামিন ই ক্যাপসুল ব্যবহার করা অনেক সহজ।  ভিটামিন ই তরল ভাবে পাওয়া যায়। যার ফলে সহজেই ত্বকে ব্যবহার করা যায়। ভিটামিন ই ঘুমানোর আগে ব্যবহার করলে অনেক উপকারিতা পাওয়া যায়।

    ৭. বিভিন্ন ধরনের দাগ দূর করে:

    ভিটামিন ই ক্যাপসুল বিভিন্ন ধরনের দাগ দূর করতে সাহায্য করে। প্রত্যেকটা মানুষের শরীরে বিভিন্ন ধরনের দাগ রয়েছে। অনেক চেষ্টার করেও দূর করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু সেসব দাগ সহজে দূর করা যায় ভিটামিন ই ক্যাপসুল ব্যবহার করে। সকল ধরনের দাগ দূর করতে ভিটামিন-ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তার সাথে ত্বকের উজ্জলতা বৃদ্ধি করে।

    ৮. চোখের নিচের কালো দাগ:

    রাত জাগার ফলে চোখের নিচে কালো দাগ পড়ে। রাত জাগা ছাড়াও বিভিন্ন কারণে চোখের নিচে কালো দাগ পড়ে। অনেক সময় শরীর দুর্বল থাকলে অনেক টেনশন করলে চোখের নিচে কালো দাগ পড়ে। চোখের নিচের কালো দাগ দূর করা যায় ভিটামিন ই ক্যাপসুল ব্যবহার করে। চোখের নিচে কালো দাগের উপর ভিটামিন ই ভালোভাবে লাগাবেন। কিছুদিন ব্যবহার হয় কালো দাগ দূর হয়ে যায়।

    ৯. নখের যত্নে ভিটামিন ই:

    অনেক সময় কাজ করার ফলে লোকের উপর বিভিন্ন খাতের সৃষ্টি হয়। অনেক কাজ করার ফলে নখের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায়। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে অন্যকে ভাল করে ভিটামিন ই ক্যাপসুল ব্যবহার করলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

    উপরে যে সব আলোচনা করা হলো সবগুলো ভিটামিন ই ক্যাপসুল এর ব্যবহার। এসব ছাড়াও আরও অনেক কাছে ভিটামিন-ই ব্যবহার করা হয়। ভিটামিন ই আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

    ভিটামিন ই এর উৎস:

    সকল মানুষের শরীর সুস্থ রাখতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে খাদ্যতালিকায় ভিটামিন-ই রাখতে হবে। ভিটামিন রয়েছে বেশি বেশি খেতে হবে। সকল ধরনের খাবারে ভিটামিন ই পাওয়া যায় না। কিছু কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো খাবারে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ই পাওয়া যায়।

     বিভিন্ন ধরনের খাদ্যের মধ্যে ভিটামিন এ পাওয়া যায়। সেসব হল: আখরোট, চিনাবাদাম, উদ্ভিজ্জ তেল, গম, সোয়াবিন এবং সূর্যমুখী তেলে। এর পাশাপাশি আরও পাওয়া যায় সবুজ শাকসবজি এবং সূর্যমুখী বীজ থেকে।

    ভিটামিন ই এর উপকারিতা:

    আমাদের শরীরের কোষ কে সুস্থ রাখতে ভিটামিন ই কাজ করে থাকে। ভিটামিন ই বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ঝুঁকি থেকে রক্ষা করে। ভিটামিন ই ক্যাপসুল নিয়মিত গ্রহণ করলে ক্যান্সার, ভুলে যাওয়া রোগ, হার্টের রোগ সহ বিভিন্ন ধরনের রোগ থেকে বাচায়। ভিটামিন এ শরীরের বিভিন্ন ধরনের ছত্রাক এর হাত থেকে রক্ষা করে। যার ফলে বিভিন্ন ধরনের তরফ থেকে আমরা রক্ষা পায়।

    প্রোস্টাগ্লান্ডিনস উৎপাদনেও কাজ করে থাকে। প্রজযোন, নিয়ন্ত্রণ এবং বেশি বৃদ্ধি ঘটে ভিটামিন-ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সিস্টিক ফাইব্রোসিস এবং লিভারের পিতল এবং পাচক তন্ত্র কি নিয়ন্ত্রনে রাখে। ভিটামিন ই মানবদেহের  সকল অঙ্গ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    ভিটামিন ই এর  অপকারিতা:

    ভিটামিন আমাদের দেহের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভিটামিন এর মাত্রা সব সময় ঠিক রাখতে হয়। ভিটামিন ই আমাদের দেহের বৃদ্ধির পাশাপাশি সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। ভিটামিন ই এর  অনেক উপকারিতা রয়েছে। উপহার রয়েছে বলেই পরিমাণের অধিক সেবন করা যাবেনা।

    আমাদের শরীরের সকল ধরনের ভিটামিন এর উপাদান সঠিক না থাকে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত কোন কিছুই ভালো না। ভিটামিন ই এর পরিমাণ শরীরে বেড়ে গেলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয়। ভিটামিনের অসমতার কারণে শারীরিক বিকাশ অনেক সমস্যা হয়। নতুন কোষ তৈরিতে সমস্যার সৃষ্টি হয়।

    এইসব কারণে খাদ্য তালিকায় ভিটামিন ই সঠিক মাত্রায় রাখতে হবে। কোনভাবেই যেন অতিরিক্ত খাওয়া না পড়ে।

    শেষ কথা:

    ভিটামিন ই মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভিটামিন ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। চুলের যত্নে ভিটামিন ই কার্যকরী ভূমিকা রাখে। ভিটামিন ই ক্যাপসুল কসমেটিক্স দোকানে পাওয়া যায়। সত্য তালিকায় ভিটামিন ই কম থাকলে ভিটামিন ই ক্যাপসুল খেতে পারেন।

    সম্পূর্ণ লেখাটি পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আপনার উপরে কোন সমস্যা  থাকলে ভিটামিন ই খেতে পারেন।

    একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

    0 মন্তব্যসমূহ