কিভাবে শরীর ঠিক রাখা যায়? শরীর ফিট রাখার ব্যায়াম ২০২৩

কিভাবে শরীর ঠিক রাখা যায়

কিভাবে শরীর ঠিক রাখা যায়? এই সম্পর্কে আমাদের অনেকের জ্ঞান নায়। আজ আমি কিভাবে শরীর ঠিক রাখা যায় এই সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। সম্পূর্ণ লেখাটি পড়লে অবশ্যই শরীর সুস্থ রাখার উপায় সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাবেন। স্বাস্থ্য সকল সুখের মূল। এই প্রবাদটি আমাদের সকলেরই জানা। ঠিক না থাকলে কোন কিছুই ভালো লাগেনা। মানুষ সুখী তখনই হয় যখন তার শরীর ঠিক থাকে। টাকা পয়সা দিয়ে সব কেনা গেলেও সুখ কেনা যায় না।

সুন্দরভাবে বসবাস করতে হলে অবশ্যই শরীর ঠিক রাখতে হবে। আর শরীর ঠিক থাকলে সকল কাজে মন বসে। সব কাজকর্ম নিজে থেকেই করতে ইচ্ছা করে। সুখী জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে শরীর ঠিক রাখা। শরীর ঠিক রাখতে আমাদের কিছু করণীয় রয়েছে। নিম্নে সেসব নিয়ে আলোচনা করা হলো:

    শরীর কি?

    শরীর বলতে আমরা বুঝি আমাদের দেহ বা শারীরিক কাঠামো। আমাদের দেহের অনেকগুলো অংশে রয়েছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি অংশ হচ্ছে আমাদের শরীর। শরীর সুস্থ না থাকলে কোন কিছুই ভালো লাগেনা। কারণ ব্রেন আমাদের সকল কিছুর চালিকাশক্তি। শরীরের কোন অংশের সমস্যা হলে ব্রেন ঠিক মত কাজ করে না। ব্রেন আমাদের শরীরের সব জায়গার সব সময় খেয়াল রাখে। ব্রেন এ কাজটি করে স্নায়ু সাহায্যে। শরীরের কোন অংশে ব্যথা অনুভব করলে সেটা স্নায়ু সাথে সাথে ব্রেনে পৌছায়ে দেয়। এ কারণে আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে শরীর। শরীর সুস্থ থাকলেই মন ভালো থাকে। আর মন ভালো থাকলে সকল কাজ করতে ভালো লাগে।

    শরীর ঠিক রাখতে খাদ্য তালিকা:

    শরীর সুস্থ রাখতে প্রায় 40 ধরনের নিউট্রিশিয়ান এর প্রয়োজন পড়ে। ৪০ ধরনের নিউট্রিশিয়ান একটি খাবারে পাওয়া অসম্ভব। এ কারণে সুস্থ থাকতে হলে অবশ্যই সঠিক খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। সঠিক খাদ্য ছাড়া শরীর ঠিক রাখা অসম্ভব। খাদ্যতালিকায় সবসময় পুষ্টিকর খাবার রাখতে হবে। কারণ পুষ্টিকর খাবার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

    পুষ্টিকর খাবার বলতে উচ্চ পরিমাণ ফাইবার, হেড এবং উদ্ভিদ ভিত্তিক খাদ্য। শরীর সুস্থ রাখতে অবশ্যই সকল ধরনের পুষ্টি উপাদান খেতে হবে। কিন্তু খাওয়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন অতিরিক্ত ক্যালরি খাওয়া না পড়ে। কারণ অতিরিক্ত ক্যালরি খাবার খেলে শরীরের ওজন বৃদ্ধি পায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দিনদিন কয় মাসে। নিচে কিছু পুষ্টিকর খাদ্য তালিকা উল্লেখ করা হলো:

    1. প্রতিদিনের খাবারে সবুজ শাকসবজি রাখতে হবে।
    2. প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় আঁশযুক্ত খাবার রাখতে হবে। 
    3. দুধ এবং দুধজাতীয় খাবার শরীর সুস্থ রাখে।
    4. প্রোটিনযুক্ত খাবার খেতে হবে। যেমন, সিম, ডাল, মাছ, ডিম ,মাংস ইত্যাদি।
    5. প্রতিদিন কমপক্ষে একটি করে ফল খেতে হবে।
    6. খাবারে তেলের পরিমাণ কমাতে হবে।
    7. প্রতিদিন কমপক্ষে তিন থেকে চার লিটার পানি খেতে হবে।
    উপরে যে সব খাদ্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সঠিকভাবে এসব মেনে চললে অবশ্যই শরীর ঠিক রাখার সম্ভব। সব সময় বাইরের খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। তাহলেই সুস্থ থাকা সম্ভব।

    শরীর ঠিক রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম:

    নিয়মিত ব্যায়াম করলে শরীর ঠিক থাকে। কারণ, প্রতিদিন আমরা যে পরিমান ক্যালরি গ্রহণ করে থাকি সেই পরিমাণ যদি ক্যালোরি শরীর থেকে বের না করলে সুস্থ থাকা অসম্ভব। কারণ ক্যালোরি আমাদের শরীর মোটা করে। আর মোটা মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হয়। যেসব কারণে নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। শরীর সুস্থ রাখতে খুব পরিশ্রম না করলেও হবে। নিয়মিত দৌড়াদৌড়ি করতে হবে। দৌড়াতে না পারলে হাত নাড়িয়ে জোরে জোরে হাঁটতে হবে।

    এরপর সাধারণ যেসব ব্যায়াম রয়েছে সেগুলো করতে হবে। আপনি যদি মনে করেন ব্যায়াম করবেন না তাহলে খেলাধুলা করতে পারেন। খেলাধুলা করলে সকল ধরনের শারীরিক ব্যায়াম হয়ে যায়। নিয়মিত ব্যায়াম করার ফলে শরীরের সব অঙ্গ পতঙ্গ সঠিকভাবে কাজ করে। কারণ ব্যায়াম করার ফলে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি হয়। এবং শরীর থেকে অতিরিক্ত চর্বি নিঃসরণ হয় ধর্মের মাধ্যমে। শরীর সুস্থ রাখলে অবশ্যই নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। ভালো হচ্ছে সাঁতার কাটা। সাঁতার কাটলে শরীরের সব জায়গার ব্যায়াম একসাথে হয়ে যায়। এ কারণে আপনি যদি প্রেম করার সময় না পান তাহলে পুকুরে বা সুইমিং পুলে আধা ঘন্টার মত সাতার কাটবেন। তাহলে শরীর ঠিক রাখা সম্ভব।

    যথেষ্ট পরিমাণ ঘুমানো: কিভাবে শরীর ঠিক রাখা যায়?

    স্বাভাবিক মানুষের প্রতিদিন 6 থেকে 7 ঘন্টা ঘুমাতে হয়। কিন্তু পরিশ্রম বেশী হলে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমাতে হয়। অনেকে রাতে না ঘুমিয়ে দিনে ঘুমায়। এর ফলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয়। প্রতিটি মানুষ যদি রাতে ছয় ঘন্টা ঘুমায় তাও যথেষ্ট। কিন্তু কেউ যদি সারারাত জেগে সারাদিন ঘুমায় তবুও রাতের এক ঘন্টা সমান ঘুমের পরিপূর্ণতা আসবে। এ কারণে অবশ্যই রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমাতে হবে এবং সকালে তাড়াতাড়ি উঠতে হবে। যথেষ্ট পরিমাণ ঘুমানো ছাড়া সুস্থ থাকা অসম্ভব। 

    সারাদিন আমরা বিভিন্ন ধরনের কাজ করে থাকে। যার ফলে দিনশেষে শরীর ক্লান্ত হয়ে যায়। সন্ধ্যার সময় মনে হয় শরীরে কোন শক্তি নয়। এসব হওয়ার কারণ হচ্ছে সারাদিন কাজ করার ফলে শরীরের যেটুকু শক্তি ছিল সব ফুরিয়ে গিয়েছে। নতুন করে শরীরে শক্তি বৃদ্ধির জন্য ঘুমাতে হবে। কারণ ঘুমিয়ে থাকলে শরীরে নতুন করে কোষ উৎপন্ন হয়। নতুন কোষ উৎপন্ন  হয় বলে শরীরে শক্তি আসে। এ কারণে যথেষ্ট পরিমাণ ঘুম না হলে কোষ উৎপাদন হতে পারে না। যার ফলে দিন দিন মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে। যথেষ্ট পরিমাণ ঘুমানোর ফলে আমাদের ব্রেন সচল হয়। কারণ মানুষ ঘুমালে ব্রেইন কাজ করা বন্ধ রাখে।যার ফলে ব্রেন সতেজ থাকে। এ কারণে শরীর ঠিক রাখতে হলে অবশ্যই যথেষ্ট পরিমাণ ঘুমানো লাগবে।

    কাজের ফাঁকে বিশ্রাম:

    কাজের ফাঁকে বিশ্রাম না নিলে শারীরিক অনেক সমস্যার সৃষ্টি হয়। একাধারে কাজ করার ফলে ক্লান্ত হয়ে পড়তে হয়। কিন্তু কিছুক্ষণ পর পর বিশ্রাম নিয়ে কাজ করলে শরীর ঠিক থাকে। বিশ্রাম নেওয়ার ফলে নতুন করে শরীরে শক্তির উৎপন্ন হয়। যার কারণে নতুন করে কিছুক্ষণ কাজ করা সম্ভব হয়। কিন্তু বিশ্রাম ছাড়া কাজ করলে বেশি কাজ করা সম্ভব না। অনেক সময় শরিফের বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি হয়ে যায়। এ কারণে কাজের ফাঁকে অবশ্যই বিশ্রাম নিতে হবে। বিশ্রাম নিয়ে কাজ করলে কাজের প্রতি মনোযোগ থাকে। মনোযোগ ছাড়া কোন কাজ করলে কাজ ভাল হয় না এবং শরীরের বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হয়। এ কারণে শরীর ঠিক রাখতে হলে অবশ্যই কাজের ফাঁকে বিশ্রাম নিতে হবে।

    পর্যাপ্ত পরিমাণ আলো বাতাস গ্রহণ করা:

    বর্তমান সময়ে মানুষ ঘরে বসে সকল ধরনের কাজ করে থাকে। হাতের কাছে মোবাইল ফোন থাকার কারণে সকল কাজ ঘরে বসে করা সম্ভব হচ্ছে। এ কারণে মানুষ আর ঘরের বাইরে যেতে চায়না। এসব কারণে দিন দিন শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। সুস্থ থাকতে হলে অবশ্যই প্রকৃতির স্পর্শে থাকতে হবে। কারণ, একটি ঘরে আবদ্ধ থাকলে পর্যাপ্ত পরিমাণ সূর্যের আলো গায়ে লাগেনা। এবং বিশুদ্ধ অক্সিজেন পাওয়া সম্ভব হয়না। 

    সূর্যের রোদে ভিটামিন ডি থাকে যা কোন খাবার খেয়ে সংগ্রহ করা সম্ভব না। ভিটামিন ডি এর জন্য অবশ্যই রোদের আলো গায়ে লাগাতে হবে। এছাড়াও ঘরের মধ্যে আবদ্ধ থাকলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস আক্রমণ করে। এসব থেকে বাঁচতে অবশ্যই পর্যাপ্ত পরিমাণ আলো-বাতাস গ্রহণ করতে হবে। আলো-বাতাস পর্যাপ্ত পরিমাণ গ্রহণ করলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। তার সাথে শরীর ও মন দুটোই ভালো থাকে।

    হাসিখুশি থাকা: 

    শরীর ঠিক রাখতে অবশ্যই আনন্দের মধ্যে থাকতে হবে। আনন্দের মধ্যে থাকলে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। কোন ধরনের অসুখ সহজে আক্রমণ করতে পারে না। একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যারা সারাদিন হাসিখুশি থাকে তাদের কখনো হাড়ের সমস্যা হয়না। হার্টের সমস্যা সাধারণত হয়ে থাকে বিভিন্ন ধরনের দুশ্চিন্তার কারণে। হাসি খুশি থাকার জন্য অবশ্যই লোক সমাগমে থাকতে হবে। একা একা থাকলে বিভিন্ন ধরনের দুশ্চিন্তা আক্রমণ করে।

    হাসিখুশি থাকার ফলে মানুষের বিভিন্ন ধরনের অসুখ ভালো হয়ে যায়। এ কারণে সুস্থ থাকতে হলে অবশ্যই মন খুলে হাসতে হবে। এবং কষ্ট পেলে সবার সাথে শেয়ার করতে হবে। মনের মধ্যে কোন কষ্ট চাপিয়ে রাখা ঠিক না। কষ্ট চেপে রাখলে হাড়ের সমস্যা হয়। আস্তে আস্তে বিভিন্ন রোগ আক্রমণ করে। এজন্য অবশ্যই সুস্থ থাকতে হলে হাসিখুশি থাকতে হবে।

    শেষ কথা: কিভাবে শরীর ঠিক রাখা যায়?

    কিভাবে শরীর ঠিক রাখা যায় এটা আমাদের অনেকেরই জানা নায়। শরীর ঠিক রাখতে হলে অবশ্যই সঠিক খাদ্য তালিকা রাখতে হবে। নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণ কমাতে হবে। এবং হাসিখুশি থাকার চেষ্টা করতে হবে। এসব মেনে চলে শরীর ও মন দুটোই ভালো থাকে।

    আমার বিশ্বাস সম্পন্ন লেখাটি পড়লে কিভাবে শরীর ঠিক রাখা যায় পরিপূর্ণ ধারণা পাবেন। লেখার মধ্যে ভুল হলে ক্ষমা করে দিবেন। সম্পূর্ণ লেখাটি পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

    একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

    0 মন্তব্যসমূহ