শারীরিক ব্যায়াম এর উপকারিতা ২০২৩

শারীরিক ব্যায়াম এর উপকারিতা

ব্যায়াম আমাদের জীবনে একটি প্রয়োজনীয় বিষয়। শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে হলে নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। আমরা সকলেই কমবেশি ব্যায়ামের গুরুত্ব সম্পর্কে জানি। কিন্তু বর্তমান সময়ের মানুষ ব্যায়াম করা পছন্দ করে না। নিয়মিত ব্যায়াম করার ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। সঠিক ভাবে জীবন পরিচালনা করতে হলে অবশ্যই সুস্থ থাকতে হবে। শারীরিক সুস্থতায় সকল সুখের মূল। শারীরিক ভাবে সুস্থ না থাকলেই আমাদের মন ভালো থাকেনা। চলুন জেনে নেই শারীরিক ব্যায়াম এর  উপকারিতা সম্পর্কে ।

শারীরিক ব্যায়াম এর উপকারিতা রয়েছে অনেক। সেসব হল, হৃদপিণ্ড সুস্থ থাকে। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। ডায়াবেটিস এর মাত্রা সঠিক থাকে। মানুষের দুশ্চিন্তা দূর হয়। এছাড়াও আরো অনেক ধরনের উপকারিতা রয়েছে ব্যায়াম করলে।

    ব্যায়াম কি?

    ব্যায়াম সম্পর্কে আমাদের সকলেরই ধারণা রয়েছে। এক ধরনের শারীরিক চর্চা। এই চর্চার মাধ্যমে শারীরিকভাবে সুস্থ থাকা ব্যায়াম আমাদের শরীরের মাংসপেশী শক্তিশালী করে। এবং শরীরের অতিরিক্ত মেদ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রাচীনকাল থেকেই শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে মানুষ ব্যায়াম করে আসে। শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে হলে একমাত্র উপায় হচ্ছে ব্যায়াম করা। ব্যায়ামের অনেকগুলো প্রকারভেদ রয়েছে। যেমন, যোগব্যায়াম, শারীরিক ব্যায়াম ও মানসিক ব্যায়াম। এসব ব্যায়ামের মাধ্যমে আমাদের শারীরিক বৃদ্ধির পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক থাকে। সুস্থ থাকতে হলে অবশ্যই ব্যায়াম করতে হবে।

    আরও পড়ুনঃ ব্যায়ামের উপকারিতা কি কি

    ব্যায়ামের উপকারিতা:

    শারীরিক সুস্থতায় সকল সুখের মূল। শারীরিক ওজন ও সুস্থতা বজায় রাখতে অবশ্যই নিয়মিত শরীর চর্চা করতে হবে। শরীরচর্চা বলতে বোঝানো হয় ব্যায়াম করাকে। নিয়মিত ব্যায়াম করার ফলে মাংস পেশি শক্তিশালী হয়। এবং শরীর থেকে অতিরিক্ত মেদ বাইরে আসে। অতিরিক্ত মেদ বের হওয়ার ফলে ওজন ঠিক থাকে। নিয়মিত ব্যায়াম করার ফলে অঙ্গের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। অনেক সময় আমাদের শরীরের বিভিন্ন অংশ অকেজো থাকে। নিয়মিত ব্যবহারের ফলে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। নিম্নে ব্যায়ামের উপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করা হলো:

    ১. রোগ প্রতিরোধ বৃদ্ধি:

    মানব দেহের সবচেয়ে বড় শত্রু রোগ। পৃথিবীতে এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া অসম্ভব যার কখনো কোন রোগ হয়নি। সকল মানুষের একটাই প্রচেষ্টা সারা জীবন রোগ মুক্তাথাকা। কারণ, রোগ আমাদের শারীরিকভাবে দুর্বল করে। এবং অনেক সময় মৃত্যু ঘটে। এ রোগ থেকে দূরে থাকতে হলে নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। নিয়মিত ব্যায়াম করার ফলে আমাদের শরীর ঠিক থাকে। এবং শরীর থেকে অতিরিক্ত বজ্র পদার্থ ঘামের মাধ্যমে বের হয়ে যায়। যার ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এর সাথে সাথে বার্ধক্যজনক সমস্যা দূর করে। এবং অনেকদিন বুড়ো হওয়া থেকে ঠেকিয়ে রাখে।

    ২. শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি করে:

    নিয়মিত ব্যায়াম করার ফলে কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। কারণ, ব্যায়াম করার ফলে আমাদের মাংসপেশি শক্তিশালী ও সচল থাকে। এবং আমাদের দেহে নতুন কোষ সৃষ্টি করতে সাহায্য করে। কাজ করার ফলে দেহ থেকে কোষ ধ্বংস হয়ে যায়। বিশ্রাম নিলে পুনরায় নতুন কোষ উৎপন্ন হয়। অনেক সময় কোন কাজ থাকে না। যার ফলে কোষ ধ্বংস হয় না এবং নতুন কোষ উৎপাদন হয় না। এইভাবে শারীরিক শক্তি কমে যায়। নিয়মিত ব্যায়াম করার ফলে কোষ ধ্বংস হয় এবং নতুন কোষ উৎপন্ন হয়। নিয়মিত প্রেম করার ফলে শারীরিক শক্তি বজায় থাকে।

    ৩. ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখে:

    বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ওজন বৃদ্ধি। এর কারণ হচ্ছে চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া। বর্তমান সময়ে সব জায়গায় চর্বিযুক্ত খাবার পাওয়া যায়। এসব খাবার খুব সুস্বাদু হয়ে থাকে। যার ফলে সবাই খেয়ে থাকে। এসব কারনে ওজন বৃদ্ধি পায়। এই সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য শারীরিক ব্যায়াম করতে হবে। নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করার ফলে মাংস পেশীতে জমে থাকা চর্বি ঘামের মাধ্যমে বের হয়ে যায়। আমাদের দেহ থেকে চর্বি বের হওয়ার ফলে শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমে যায়। এ কারণে শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে হলে অবশ্যই ব্যায়াম করতে হবে।

    আরও পড়ুনঃ বডি ফিটনেস ঠিক রাখার উপায়

    ৪. মনকে চাঙ্গা রাখে:

    নিয়মিত ব্যায়াম করার ফলে নানা রকম রাসায়নিক পদার্থের মস্তিষ্কে নির্গত হয়। সব রাসায়নিক পদার্থ শারলিক ও মানসিক প্রশান্তি বৃদ্ধি করে। এবং চেহারার লাবণ্য ও উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। নিয়মিত দান করলে বিষন্নতা কিংবা হতাশা সহজে দুর্বল করতে পারে না।

    ৫. কর্ম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে:

    শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ থাকলে কোন কাজ ভালো লাগেনা। যার ফলে কর্ম ক্ষমতা কমে যায়। কিন্তু নিয়মিত ব্যায়াম করার ফলে শরীরের প্রতিটি অংশে অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ হয়। যার ফলে সমস্ত শরীর সুস্থ থাকে এবং নতুন কোষ উৎপন্ন হয়। নতুন কোষ কর্ম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এজন্য নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। 

    ৬. যৌন শক্তি বৃদ্ধি করে:

    যৌন সুখ পুরো দাম্পত্য জীবনে প্রভাব পড়ে। যাদের যৌন সমস্যা রয়েছে তাদের সংসার জীবনে সমস্যা রয়েছে। এই সমস্যাটি হয়ে থাকে শরীর দুর্বলতার কারণে। নিয়মিত ব্যায়াম করার ফলে যৌন হরমোন উৎপন্ন হয়। এবং যৌন শক্তি বৃদ্ধি পায়। দাম্পত্য জীবন সুখের করতে হলে নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। ব্যায়াম করার ফলে যৌন স্থায়িত্ব বৃদ্ধি পায়।

    ৭. পর্যাপ্ত ঘুম হয়:

    নিয়মিত ব্যায়াম করলে আমাদের শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে। ক্লান্ত শরীরের ঘুম ভালো হয়। যাদের রাতে ঘুম হয় না তারা নিয়মিত ব্যায়াম করতে পারেন। ব্যায়াম করলে শরীর সুস্থ থাকে। এবং বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সমাধান হয়। যেমন অনিদ্রায়, অতি নিদ্রা। ব্যায়াম করার ফলে মানসিক দুশ্চিন্তা দূর হয়। দুশ্চিন্তা দূর হওয়ার ফলে মন ভালো থাকে। এ কারণে ঘুমালে খুব ভালো ঘুম হয়। নিয়মিত ঘুম না হলে অবশ্যই ব্যায়াম করতে হবে।

    ব্যায়ামের সঠিক সময়: শারীরিক ব্যায়াম এর উপকারিতা

    সুস্থ থাকতে হলে অবশ্যই নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। ব্যায়াম আমাদের শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত ব্যায়াম করার ফলে মাংসপেশিতে সঠিক পরিমাণ অক্সিজেন সরবরাহ হয়। যার ফলে মাংস পেশি সতেজ থাকে। এ কারণে, অবশ্যই ব্যায়াম করতে হবে। ব্যায়াম করার কিছু নির্দিষ্ট সময় রয়েছে। দিনের যে কোন সময় ব্যায়াম করা যায়। কিন্তু সব সময় সব ধরনের ব্যায়াম করা যায় না। যার ফলে আমাদের দেহের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে। এ কারণে, ব্যায়াম করার আগে সময় নির্ধারণ করে নিতে হবে। নির্ধারিত সময়ে ব্যায়াম করলে সুফল বেশি পাওয়া যায়। 

    ব্যায়াম করার সবচেয়ে ভালো সময় হচ্ছে সকাল বেলা। কিন্তু সকালবেলায় ভার উত্তোলন করা ঠিক না। সারারাত খালি পেটে থাকার ফলে আমাদের দেহে পুষ্টির ঘাটতি দেখা যায়। এই সময় ভার উত্তোলন করলে অনেক ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে সকালবেলায় সাধারণ ব্যায়াম করতে হবে। এছাড়াও, বিকেলবেলা অথবা সন্ধ্যাবেলা ও ব্যায়াম করা যায়। এই সময় ব্যায়াম করলেও সুফল পাওয়া যায়। সন্ধ্যার সময় ভার উত্তোলন করতে পারবেন। কারণ, সন্ধ্যার পর ঘুমিয়ে পড়তে হয়। তাহলে শরীরে যে পরিমাণ ক্যালরি ঘাটতে হয় রাত্রে ঘুমানোর পর সেটা পূরণ হয়। এ কারণে সব সময় সব ধরনের ব্যবহার করা ঠিক না।

    আরও পড়ুনঃ শারীরিক সক্ষমতা পরীক্ষায় নিজের শক্তি ও দুর্বলতা নির্ণয়ের প্রয়োজন কেন

    ঘরে ব্যায়াম করার নিয়ম:

    দৈনন্দিন জীবনে কাজের চাপ অনেক। যে কারণে, নিজের শারীরিক যত্ন নেওয়ার সময় থাকে না। যার ফলে খুব তাড়াতাড়ি অসুস্থ হয়ে পড়তে হয়। এই সমস্যা আমাদের সবার মধ্যে দেখা যায়। এ সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। ব্যায়াম করার জন্য কোথাও যাওয়ার মত সময় না থাকলে ঘরে ব্যায়াম করতে পারেন। কথায় আছে, ইচ্ছা থাকলেই উপায় হয়।

    ঘরে ব্যায়াম করলে অনেক সুবিধা রয়েছে। সময় কম লাগে এবং জিমাগারে টাকা দিতে হয় না। ঘরে ব্যায়াম করতে হলে প্রথমে একটা নির্দিষ্ট স্থান বের করতে হবে। এবং নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিদিন ব্যায়াম করতে হবে। ঘরে সাধারণত ব্যায়াম করা যায় মেদ কমানোর মতো। যেসব ব্যায়াম করতে কোন ধরনের সরঞ্জাম প্রয়োজন পড়ে না সেগুলো বাসায় করতে পারেন। আপনি ইচ্ছা করলে বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম কিনে বাসায় জিমাগারে করতে পারেন। তাহলে বাসার সবাই একসাথে ব্যায়াম করতে পারে।

    ঘরে ব্যায়াম করার সময় সব সময় সচেতন থাকতে হবে। কারণ, বাসায় কোন ট্রেনার থাকে না। যার ফলে ব্যায়াম করে উপকার না হয়ে অপকার হতে পারে। এ কারণে ব্যায়াম করার আগে ব্যায়ামের সঠিক নিয়ম জেনে নিতে হবে। তাহলে ঘরে ব্যায়াম করা সম্ভব।

    ব্যায়াম করার নিয়ম:

    সকল কাজের সঠিক নিয়ম রয়েছে। ঠিক একইভাবে, ব্যায়াম করার কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। কারণ, আমরা ব্যায়াম করা থাকি আমাদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য। ব্যায়াম করার আগে অবশ্যই জেনে নিতে হবে আমাদের শারীরিক ত্রুটিগুলো। কারণ, সবার শারীরিক গঠন এক না। এজন্য, সব ধরনের ব্যায়াম সবার জন্য না।

    ব্যায়াম করার কিছু নির্দিষ্ট বয়স রয়েছে। নির্দিষ্ট বয়সে নির্দিষ্ট জ্ঞান না করলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা। ব্যায়াম সব বয়সই করা যায়। কিন্তু সব ধরনের ব্যায়াম করা যায় না। যেমন, প্রাপ্তবয়স্ক না হলে ভারত উত্তোলন করা ঠিক না। যার ফলে শারীরিক বিকাশ এর বাধা সৃষ্টি করে। আবার বৃদ্ধ হলেও এই সমস্যা হতে পারে। এজন্য ব্যায়াম করার আগে নির্দিষ্ট বয়স অনুযায়ী ব্যায়াম করতে হবে।

    শেষ কথা: শারীরিক ব্যায়াম এর উপকারিতা

    শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে হলে নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। নিয়মিত ব্যায়াম করার ফলে হৃৎপিণ্ড সুস্থ থাকে। এবং উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে। সুস্থ থাকতে হলে অবশ্যই ব্যায়াম করতে হবে।

    ব্যায়াম না করলে পুরোপুরিভাবে সুস্থ থাকা অসম্ভব। কারণ, ব্যায়াম করার ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। যার ফলে সহজে কোন রোগ আক্রমণ করতে পারেনা। লেখার মধ্যে কোন ভুল হলে ক্ষমা করে দিবেন। সম্পূর্ণ লেখাটা পড়ার জন্য ধন্যবাদ। 

    একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

    0 মন্তব্যসমূহ